কোচবিহার খবর

কোচবিহারে তৃণমূল নেতা খুন অভিযোগ বিজেপির দিকে

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কোচবিহার, ২৯শে সেপ্টেম্বরঃ গুলি করে খুন করা হলো স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে। অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। শুক্রবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার ২নং ব্লকের  ঢাংঢিংগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চালতাতলা এলাকায়। মৃতের নাম কুদ্দুস আহমেদ (৩৩)।
এদিন রাতে  স্থানীয় বাজার থেকে মোটর সাইকেল চেপে বাড়ি ফিরছিলেন কুদ্দুস হোসন।  তার মোটরসাইকেল  এই চালতাতলা এলাকায় আসার সাথে সাথে  তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে বিজেপি দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতিদের ছোড়া গুলি তার বুক পকেটে রাখা মোবাইল ভেদ করে তার বুকে লাগে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কারণ তার রক্তাক্ত দেহের পাশেই পাওয়া গেছে দুমড়ে যাওয়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি। এ দিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ অতর্কিতেই গুলির শব্দে বাইরে বেরিয়ে আসেন গ্রামবাসীরা এবং দেখেন মোটরসাইকেল সহ  রাস্তার পাশে পড়ে আছে একটি রক্তাক্ত দেহ। তার সামনে গিয়ে সবাই দেখতে পারেন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটির উপর ছটফট করছেন তাদের পরিচিত কুদ্দুস। এই পরিস্থিতিতে রক্তাক্ত অবস্থায় তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে আসা হয় কোচবিহার শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এখানেই  চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এলাকায় তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে কুদ্দুস ছিলেন অন্যতম। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর বিজেপি-র ডাকা বনধ ব্যর্থ করার আহ্বান জানিয়ে তৃণমূলের মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন এই কুদ্দুস। সেদিন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও  কর্মী-সমর্থকদের সাথে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে এই খুন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা মনিরুল হক। তিনি বলেন, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে খুন করা হয়েছে।
কোচবিহার ২নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি রাধারানী বর্মন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এ দিন বলেন, কুদ্দুস আহমেদ  ছিলেন তাদের দলের প্রথম সারির সৈনিক। সংগঠনের যেকোনো কাজেই তাকে সব সময়ই পাওয়া যেত প্রথম সারিতে। তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে খুন করা হয়েছে। অবিলম্বে অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার এই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪ রাউন্ড গুলি।  এছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকেই একটি অত্যাধুনিক পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। মৃত কুদ্দুস আহমেদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজনীতির পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন এই কুদ্দুস। এই খুন রাজনৈতিক খুন, নাকি পেশা সংক্রান্ত কোন বিবাদের পরিণতি? তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও।
এই ঘটনার পর স্থানীয় পুন্ডিবাড়ি থানায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে কুদ্দুস কে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে  ৪জন বিজেপি কর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিস।
যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে আনা সমস্ত  অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা। তিনি বলেন,“বিজেপি খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের ফল। তৃণমূলের প্রত্যেক কর্মীর কাছে অস্ত্র মজুত রয়েছে। বিজেপির কর্মীদের ফাঁসিয়ে পুলিস তাদের গ্রেপ্তার করেছে। আমরা চাই প্রত্যেকটা খুনের সিবিআই তদন্ত হোক।”

Related posts

ফুলবালার পাশে ছাত্র ফেডারেশন

Topnewstoday

কৃষকদরদি বাজেট আরও একটা ভোটের চমক

Topnewstoday

বেহালা সংহতি কালী পূজা কমিটি। এই পুজাটি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কালী পুজো বলেও পরিচিত।

Topnewstoday

Leave a Comment