• Home
  • খবর
  • বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণসায়র পার্কে ভয়াবহ দূষণ কাঠগড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়
খবর পূর্ব বর্ধমান

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণসায়র পার্কে ভয়াবহ দূষণ কাঠগড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি বর্ধমান ৭ অক্টোবরঃ  বর্ধমানের গোলাপবাগ চত্বর এলাকা জুড়ে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃস্টি হয়েছে। গোলাপবাগ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে কৃষ্ণসায়র পার্ক। রাজ আমলের এই কৃষ্ণসায়রকে ঘিরেই তৈরী হয়েছে বিশালাকার পার্ক। এক ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়ল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কৃষ্ণসায়র এবং তৎসংলগ্ন  এলাকার মানুষেরা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাই তীব্র অবহেলার অভিযোগের আঙুল উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কৃষ্ণসায়রে মাছ চাষ হয়। এই মাছ চাষে বরাদ পাওয়া সংস্থার সাথে প্রায় বছর তিনেক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা হওয়ার ফলে পুকুর সংস্কার হয়নি প্রায় ৩ বছর।  সম্প্রতি কৃষ্ণসায়রের জলে প্রচুর পরিমাণে পানা হওয়ায় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর উপর সাম্প্রতিককালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে  পতঙ্গবাহিত রোগে দূরীকরণে সমস্ত জলাশয় পরিষ্কার করার নির্দেশ জারী করা হয়।  আর তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। গত আগষ্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পানা পরিষ্কারের জন্য টেণ্ডার ডাকে। টেণ্ডার বরাত পায় একটি বেসরকারী সংস্থা। প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয় এই পানা পরিষ্কারের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষ্ণসায়র পার্ক সূত্রে জানা গেছে, শর্ত সাপেক্ষে ওই সংস্থাকে বরাদ দেওয়া হয়েছে যাতে জলাশয়ের লক্ষাধিক টাকার মাছের কোন ক্ষতি না হয়। তাই পানা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়- জলাশয় থেকে পানা পাড়ে তুলে সেই পানাকে কীটনাশকের মাধ্যমে বিনষ্ট করার। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট বরাত পাওয়া সংস্থাটি জলাশয়ে পানা থাকা অবস্থাতেই কীটনাশক স্প্রে করে। এরফলে গোটা জলাশয়ের জল দূষিত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন হুহু করে মাছ মরে ভেসে উঠেছে পুকুরে। আর গোটা জলাশয়ের জল পচে গিয়ে গোটা এলাকায় তীব্র দূষণ ছড়িয়েছে। ফলে পচা দুর্গন্ধে গোটা এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরদারীর প্রয়োজন ছিল। কেন বরাত পাওয়া সংস্থা জলাশয়েই কীটনাশক দিয়ে পানা মারল তা নিয়ে তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বিষয়টি নজরে আসার পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেই পানা তুলে ফেলার কাজ শুরু করে। কিন্তু যেহেতু আগেই সংস্থাটি জলাশয়ে পানা থাকা অবস্থাতেই কীটনাশক স্প্রে করে তাই ক্ষতি যা হবার তা হয়ে যায় বলে মনে করছেন এলাকার মানুষরা। এদিকে, এব্যাপারে শনিবার বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসার দীপেন্দ্রনাথ দে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে রবিবার কৃষ্ণসায়র পরিদর্শন করবেন বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলার মৎস্য সহ-অধিকর্তা দেবাশিস পালুই জানিয়েছেন, এরকম একটা ঘটনার কথা তাঁদের কানেও এসেছে। তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

 

Related posts

রাত পোহালেই মহালয়া, তাই রাতের ঘুম উবেছে নিমাইদার

Topnewstoday

মাথাভাঙ্গায় একটি বাড়িতে আগুন

Topnewstoday

মেখলিগঞ্জ নিজতরফে অধিকার যাত্রা

Topnewstoday

Leave a Comment