• Home
  • খবর
  • মহালয়ার প্রাক্কালে জলপাইগুড়িতে বিপুল সংখ্যক নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার আটক এক
খবর জলপাইগুড়ি

মহালয়ার প্রাক্কালে জলপাইগুড়িতে বিপুল সংখ্যক নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার আটক এক

নিজস্ব সংবাদদাতা জলপাইগুড়ি ৭ অক্টোবরঃ  পুলিশের হুশিয়ারিও কাজ দিল না। শুক্রবার জলপাইগুড়ির রায়কতপাড়ার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হল প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ শব্দবাজি । গ্রেফতার হয়েছে চিন্টু আগারওয়াল নামে এক ব্যবসায়ী।  আটক হওয়া শব্দবাজির দাম ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা বলে দাবি কোতোয়ালি থানার পুলিশের। এই নিয়ে গত দুই সপ্তাহে নিষিদ্ধ শব্দবাজি সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হল।

গতবছর মহালয়ার রাত্রে শব্দাসুরের দাপটে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল শহরবাসীর। প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুলিশের ভূমিকা। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার তড়িঘড়ি আগাম সতর্কতা নেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছিল পুলিশ। শব্দবাজির দৌরাত্ম্য আটকাতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি বৈঠক করেছিল জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানা। সেই বৈঠকে শহরের কয়েকজন বাজি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এদিন ধৃত ব্যবসায়ীও ওই বৈঠকে ছিলেন। নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি বন্ধের অনুরোধ শুধু নয়, বৈঠকে কড়া ভাষায় পুলিশ জানিয়েছিল, নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমর্থন জানিয়েছিল বাজি ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ী সমিতিগুলি।  তারপরেও এদিন এত পরিমাণে বাজি উদ্ধার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পুলিশের হুশিয়ারিতে কর্ণপাত করছে না এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। সেখানেই উঠছে প্রশ্ন। আগামীকাল মহালয়া। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,সেই কারণেই ওই ব্যবসায়ী তার বাড়ির গুদামে এত নিষিদ্ধ শব্দবাজি মজুত করেছিল। আজ রাতেই তা গোপনে খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যেত।বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে এদিন দুপুরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।

শহরের বাজি ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, কিছু ভুঁইফোড় ব্যবসায়ী পুজোর সময় অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এই কাণ্ড ঘটান। গতকালও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই নিয়ে গত দুই সপ্তাহে নিষিদ্ধ শব্দবাজি সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হল।
জলপাইগুড়ির দিনবাজারে বহুদিনের পুরোনো বাজির দোকান রয়েছে বিমল আগরওয়ালের। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে তারা শব্দবাজি বিক্রি করছেন না।  দোকানে ব্যানার টাঙিয়ে ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে সেই কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।  তার বক্তব্য, যেহেতু খোলাবাজারে শব্দবাজি অমিল, তাই অন্য ব্যবসার সাথে যুক্ত কিছু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাইরে থেকে শব্দবাজি আমদানি করে বিক্রি করছেন।বাজি ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধুমাত্র  মহালয়ার এক রাতেই ৭-৮ লক্ষ টাকার বাজি পোড়ানো হয় জলপাইগুড়ি শহর এবং শহরতলি এলাকায়।  এই বছর পুলিশ কড়াকড়ি করায় সাধারণ বাজি ব্যবসায়ীরা শব্দবাজি রাখছেন না।

আনন্দ কানোরিয়া নামে এক বাজি বিক্রেতা জানিয়েছেন, অনেক ক্রেতাই চকলেট বোমার মত নিষিদ্ধ শব্দবাজি কিনতে আসছেন। শব্দবাজি নিষিদ্ধ জানিয়ে দেওয়ায় অনান্য আতসবাজিও  কিনছেন না ক্রেতারা বলে জানিয়েছেন তিনি।অতি উৎসাহীদের এই চাহিদার সুযোগটাই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাজে লাগাচ্ছেন বলে দাবি সাধারণ বাজি বিক্রেতাদের।  তাদের দাবি, তিনজন গ্রেফতার হয়েছে,কিন্তু এরকম আরও ভুঁইফোড় বাজি ব্যবসায়ী শহরে আছে।

কোতোয়ালির আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানিয়েছেন, তাদের কড়া নজরদাড়ি চলছে। নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির অভিযোগ পেলেই ওই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিন ধৃত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ আইনে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার তাকে জলপাইগুড়ি বিশেষ আদলতে তোলা হবে।
ডিস্ট্রিক চেম্বার অফ কমার্সের কার্যকারী সভাপতি বিকাশ দাস জানিয়েছেন, পুলিশ সঠিক পদক্ষেপ করেছে। তিনি  জানিয়েছেন,শহরে ঢোকার যে প্রধান পথগুলি রয়েছে সেখানে বেশি করে নজরদারি করুক পুলিশ তাহলেই এইভাবে বাইরে থেকে শব্দবাজি আমদানি বন্ধ হবে।

 

Related posts

জমি বিবাদে ভাইয়ের হাতে আক্রান্ত দাদা

Topnewstoday

কোচবিহারে সংখ্যালঘু মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ব্যবসায়ী ঋণ প্রকল্প

Topnewstoday

সরকারি রাস্তা তৈরিতে বাধা আক্রান্ত যুবক

Topnewstoday

Leave a Comment