• Home
  • শিক্ষা ও সাহিত্য
  • 1920 থেকে প্রকাশিত 98বর্ষ প্রাচীন হাতে লেখা শারদ পত্রিকা ‘প্রভাত সাহিত্য পত্রিকা’র প্রকাশ
শিক্ষা ও সাহিত্য

1920 থেকে প্রকাশিত 98বর্ষ প্রাচীন হাতে লেখা শারদ পত্রিকা ‘প্রভাত সাহিত্য পত্রিকা’র প্রকাশ

Top News Today পূর্ব বর্ধমান ২৩ অক্টোবরঃ   প্রায় ৯৮ বছর ধরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার আনগুনা গ্রামের সাহিত্যপ্রেমীদের নিরলস উদ্যোগে প্রকাশিত হয়ে চলেছে হাতে লেখা শারদ পত্রিকা প্রভাত সাহিত্য পত্রিকা। বুধবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আর ৯৮তম বর্ষের সংখ্যাটিও প্রকাশিত হচ্ছে ওইদিনই। প্রভাত সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত আনগুনা প্রভাত স্মৃতি সংঘের সদস্যরা জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে মুদ্রণ জগতে বিপ্লব ঘটে গেছে। পোড়া মাটির তৈরী অক্ষর থেকে ট্রেডিল মেশিন ছাড়িয়ে এখন ডিজিট্যাল প্রিণ্টিং-এর চুড়ান্ত পর্বে উপনীত হয়েছেন মানুষ। প্রতিদিনই নিত্য নতুন পরিবর্তন পরিবর্ধন ঘটে যাচ্ছে মুদ্রণ দুনিয়ায়। আর সেখানে রীতিমত নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেই আনগুনা গ্রামের প্রভাত সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে চলেছে হাতে লিখেই। তাঁরা জানিয়েছেন, একসময়ের দিকপাল লেখকদের লেখায় সমৃদ্ধ হয়েছে এই সাহিত্য পত্রিকা। ১৯২০ সাল থেকে শুরু হয় এই পত্রিকা প্রকাশনা। তারপর থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবেই চলছে। সদস্যরাই নিজেরাই এক একটি দায়িত্ব তুলে নেন। সম্পূর্ণ হাতের লেখায় সমৃদ্ধতাই নয়, সেই লেখাকে ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি পাতায় পাতায় তৈরী আঁকা হয় নানান ছবিও। জানা গেছে, কাজী নজরুল ইসলাম, কালীদাস রায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যজিত রায়, নবনীতা দেবসেন, সত্য বন্দোপাধ্যায়দের মত লেখকদের লেখাও রয়েছে এই সাহিত্য পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায়। ৯৮ বছরের প্রতিটি সংখ্যাই ক্লাবের লাইব্রেরীতে সুরক্ষিত রয়েছে। শুধু নামীদামী লেখকদেরই নয়, অনেক উঠতি লেখকদেরও ঠাঁই দেওয়া হয় এই স্বনামধন্য পত্রিকায়। সদস্যরা জানিয়েছেন, পত্রিকাটি তৈরী হয় ৮ ইঞ্চি লম্বা এবং ৬ ইঞ্চি চওড়া বইয়ের আকৃতিতে। পাতার সংখ্যা থাকে প্রায় ২০০। প্রতিটি পাতাই আর্ট পেপার কেটে তৈরী করা হয়। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিন সন্ধ্যায় গ্রামের মন্দিরে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হয় শারদীয়া প্রভাত সাহিত্য পত্রিকা। ক্লাবের সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রামে লক্ষ্মীপুজোয় একটা আলাদা টান ও উন্মাদনা থাকে। অনেকেই যাঁরা দুর্গাপুজোর সময় গ্রামের বাড়িতে ফিরতে পারেন না, তাঁরা বাড়ির কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় ফেরেন। আর তাই আনগুনা গ্রামের লক্ষ্মীমন্দিরে প্রতিবছরই এই পত্রিকার প্রকাশ ঘটে।

Related posts

ডুয়ার্সে বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম লিম্বু-সুব্বা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ

Topnewstoday

Leave a Comment