আসন্ন সংকট কর্মসংস্থান

নিভুনিভু মাটির প্রদীপ

Top News Today মালদা, ২৮ অক্টোবরঃ
প্রদীপের নীচে হয়তো এখন আর সেইভাবে অন্ধকার নেই৷ দেশি কিংবা চীনা আলোর রকমারি বাহারের মধ্যেও ঠিক জায়গা করে নিয়েছে বাংলার সেই মাটির প্রদীপ৷ তবে তা হলে কী হবে! এতে কুমোর শিল্পীদের অভাব কাটেনি৷ এখনও সেই নুন আনতে পান্তা ফোরানোর রোজ নামচা৷ তবুও বাপ-ঠাকুরদার পুরোনো শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে জীবন সংগ্রামে ব্যস্ত পুরাতন মালদার রশিলাদহের কুমোররা৷

মালদা কোর্ট স্টেশনের পাশেই রশিলাদহ গ্রাম৷ সেখানকার মণ্ডলপাড়ায় ৬ ঘর কুমোরের বাস৷ বছরভর মাটির নানা ধরনের জিনিস তৈরি করেন তাঁরা৷ সেসব বিক্রি করেই দিন গুজরান৷ পুজোর সময় তাঁদের ব্যস্ততা বাড়ে৷ বিশেষত লক্ষ্মীপুজো থেকে কালীপুজো পর্যন্ত নিশ্বাস ফেলার সময় থাকে না৷ এখনই যে মাটির সরা-প্রদীপ-ঘটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি! আর এই সময় যা রোজগার হয়, গোটা বছর ধরে তা অল্প অল্প করে খরচ হয় সংসারে৷

একটা সময় ছিল, যখন বছরের কোনও সময়ই কুমোরদের বসে থাকার জো ছিল না৷ গরমের সময় কলসি-কুঁজো থেকে শুরু হয়ে পৌষ পার্বণের জন্য মাটির জিনিস৷ সময়ের সঙ্গে ক্রমপর্যায়ে চলত সেসব কাজ৷ এখন অবশ্য সেই দিন আর নেই৷ বিজ্ঞানের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ মাটির জিনিসই কার্যত অস্তিত্ব হারিয়েছে৷ এমনকি গ্রাম বাংলাতেও৷ কিন্তু কালীপুজোর সময় এখনও প্রবল চাহিদা মাটির প্রদীপের৷ তেমনটাই জানালেন রশিলাদহের এক কুমোর রঞ্জিৎ পাল৷ তিনি বললেন, যতই বিদ্যুতের আলো ব্যবহার হোক, যতই দেশি কিংবা চীনা আলোয় দীপাবলির রাত জ্বলজ্বল করুক, কিন্তু এখনও মাটির প্রদীপের স্নিগ্ধ আলো দীপাবলিকে আরও স্নিগ্ধ করে তোলে৷ তাঁদের বিক্রিও বেড়েছে আগের তুলনায়৷

কিন্তু তাতে তাঁদের কোনও লাভ হচ্ছে না৷ যে হারে মাটি কিংবা জ্বালানির দাম বেড়েছে, সেভাবে বাড়েনি প্রদীপ-সরা-ঘটের দাম৷ প্রতি হাজার প্রদীপ তাঁরা মাত্র ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন৷ ফলে ব্যবসা বাড়লেও তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়নি৷ তাঁদের এই কুটির শিল্পকে গতি দিতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ৷ কিন্তু সরকারও তাঁদের কোনও সাহায্য করছে না৷ তাই নিজেদের পেট চালাতে তাঁরা এভাবেই খুবই অল্প লাভে বাপ-ঠাকুরদার ঐতিহ্য পরম্পরায় মাটির জিনিস তৈরি করে চলেছেন৷

Related posts

জলের তীব্র সংকটে জেলায় আমন ধানের ক্ষতি

Topnewstoday

অনাবৃষ্টি মাকলি গ্রামে ১০০ চাষির হাহাকার

Topnewstoday

Leave a Comment