• Home
  • খবর
  • মালদার দশ মাথার মহাকালী এবার ৮৮তম
খবর সংস্কৃতি

মালদার দশ মাথার মহাকালী এবার ৮৮তম

Top News Today, ৬ নভেম্বর ২০১৮;

১৯৩০ সাল। দেশে যখন ইংরেজদের রাজত্ব সারাদেশের সঙ্গে মালদাতেও সাধারণ মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালাচ্ছিল ব্রিটিশ সরকার।সেই অত্যাচার সহ্য করতে পারছিল না শহরবাসীর। সেই সময় পুরাটুলির কিছু মানুষ ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নানাবিধ অস্ত্রে সজ্জিত বিদেশিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে লাগবে শক্তি আর সাহস।

শারীরিক ভাবে নিজেদের সুদৃঢ় করে তুলতে সেই মানুষেরা একটি ব্যায়ামাগার নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে নিজেদের মনকে শক্ত করতে শুরু করেন কালীর আরাধনা। শক্তির আরাধনায় তাদের আরাধ্য ছিলেন দশ মাথার মহাকালী। সেই পুজো এখনো হয়ে আসছে তবে পুরাটুলি থেকে পুজোর স্থান পরিবর্তন হয়ে এসেছে শহরের গঙ্গাবাগ মাঠে। সারা জেলায় এই পুজোর দশ মাথার মহাকালী নামে পরিচিত।

কালী মূর্তিতে এখনো কিছুটা বিশেষত্ব রয়েছে। দেবীর দশমাথা, দশ হাত, দশ পা প্রতিমা শিবের কোন অস্তিত্ব নেই। দেবীর পায়ের তলায় রয়েছে অসুরের কাটা মুন্ডু। প্রতি হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র। পুজো উদ্যোক্তারা জানালেন শ্রী শ্রী চণ্ডী গ্রন্থে বৈকৃতিক রহস্য এই মূর্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। বিহারের বিন্দুবাসিনীতে পাহাড়ের গায়ে ও প্রাচীন যুগে খোদাই করা রয়েছে এই মূর্তি।

গঙ্গাবাগ এলাকায় মায়ের মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে ১৯৮৫ সালে। এবার মূর্তি তৈরি করছেন অষ্টম চৌধুরী। পুজোয় চালু রয়েছে বলি প্রথা। মায়ের মন্দির নির্মাণ নিয়ে এলাকায় রয়েছে অনেক কাহিনী। প্রথম এই পূজো শুরু করেন কমল কৃষ্ণ চৌধুরী।

স্থানীয়দের কাছে জানা যায় বর্তমানে যেখানে মহাকালের মন্দির রয়েছে সেখানে তন্ত্র সাধনা করতেন এলাকার বাসিন্দা প্রফুল্ল ধন মুখোপাধ্যায়। সাধনার জন্য তৈরি করে পঞ্চমুন্ডির আসন। সেই আসন এর ওপরে দেবীর বেদি নির্মিত হয়েছে। প্রফুল্ল বাবুর মৃত্যুর পর তার বংশধর ও স্থানীয় মানুষজন এই পুজো চালিয়ে আসছিলেন বর্তমানে পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন ইংরেজবাজার ব্যায়াম সমিতি।

ইংরেজবাজার ব্যায়াম সমিতি সভাপতি নটরাজ মুখার্জি বলেন, প্রথম থেকেই এই পুজো প্রথা মেনে অমাবস্যার পরিবর্তে চতুর্দশ তিথিতে এই অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। পাঠা বলি দিয়ে তার রক্ত উৎসর্গের মধ্য দিয়ে পুজো শুরু হয়। বলি শেষে শোল মাছের টক রান্না করে দেওয়া হয় মাকে।

এই বছর ৮৮ তম বছরে পা দিয়েছে পুজো। চতুর্দশী সকালে মৃৎশিল্পীরঘর থেকে শোভাযাত্রা সহকারে মন্দির পর্যন্ত মাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এবছরে তাদের চমক ডান্ডিয়া, ব্যাকপাইপার, রাইবেস ডগর ও ভাঙরা সহ শহর পরিক্রমা করে বিভিন্ন রকমের বাদ্য ঢাক নৃত্য সহকারে মাকে নিয়ে শোভাযাত্রা করেন ক্লাব কর্তারা। এই পুজো মূলত দিনের বেলায় করা হয়। চলে ছয় দিন ব্যাপী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Related posts

এবার জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়েও প্রতিযোগিতা শিলিগুড়িতে

Topnewstoday

শিলিগুড়িতে প্রায় ১০ কেজি সোনা উদ্ধার আটক এক

Topnewstoday

পুলিশের তৎপরতায় শিলিগুড়িতে হাতেনাতে গ্রেপ্তার পাঁচ বাইক চোর

NewsAdmin2Day

Leave a Comment