• Home
  • খবর
  • পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিককে সাথে নিয়ে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে
খবর পূর্ব বর্ধমান

পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিককে সাথে নিয়ে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৩ জানুয়ারি;

মন্তেশ্বর থানা মামুদপুর গ্রামে ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মায়ের ঘনিষ্ঠতার প্রতিবাদ করায় মেরে ফেলা হয়েছে মেয়েকে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী তুলেছেন স্থানীয়রা।

রবিবার সকাল বেলা জেসমিনা খাতুন বয়স ১৭ নামে এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করল মন্তেশ্বর থানার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মন্তেশ্বর থানার মামুদপুর গ্রামে। ছাত্রীর মৃতদেহ ঘিরে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্য এলাকায়। বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন এই মৃত্যুর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি হোক। প্রথমে মৃতদেহ পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে গ্রামের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারপরে সিআইএ’র কথা মতো গ্রামবাসীরা মৃতদেহ নিতে সম্মতি জানায়।

পরিবারের তরফে দিদি জামিন খাতুন জানায়, আমার বোনকে মা ও তার প্রেমিক প্রতিনিয়ত জ্বালাতন করতো, আমার বোন কে মেয়ে ফেলার হুমকিও দিয়েছিলো, যেহেতু আমার বোন মায়ের ঘনিষ্ট সম্পর্ক দেখে ফেলে l তারপর থেকেই মা বোনের ওপর অত্যাচার চালাতো, ওরাই আমার বোনকে মেরে ফেলেছে l

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে মা পরকীয়া প্রেমে জড়িত থাকার ঘটনা মেয়ে মেনে নিতে পারেননি তাই প্রতিবাদ জানালে বারবার অত্যাচার সহ মারধোর হয়েছে মেয়ের উপর। মায়ের অত্যাচারে বহুবার বাড়ি ছাড়া হয়ে দিদির বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতো মেয়ে। কিছুদিন আগেও মায়ের পরকীয়া বিষয় নিয়ে গ্রামীন সালিশি এবং থানা পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেষ জানা গিয়েছে যে মেয়েটি দিদির বাড়িতে আশ্রয় নিলেও ফের বাড়িতে ফিরে আসে গ্রামের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত এবং পুলিশের কথামতো।
তার কয়েকদিন পরেই এমন ঘটনা ঘটলো‌

রবিবার জেসমিনা খাতুন যে ঘরে থাকতো ঘরের দরজা ভাঙ্গা ছিল ওড়না গলায় ঝুলছে এমনটাই দৃশ্য দেখতে পেয়েছে প্রতিবেশীরা। খাটের সঙ্গে মোড়ানো ছিল পাঠি। স্থানীয়দের দাবি জেসমিনা খাতুন নিজে আত্মঘাতী হয়নি তাকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে যে বাবা আরমান শেখ প্রতিবেশী আয়াত মোহাম্মদ শেখ কে ডেকে তার মৃত্যুর খবর জানায় এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তবে গ্রাম সূত্রে খবর জেসমিনা খাতুন এর মা তোহোরা বিবি ওরফে ফেরদৌসী রাতের দিকে বাড়িতে এসেছিল বলে এলাকায় গুঞ্জন কিন্তু এর সত্যতা কত দূর পুলিশের কাছে ও কোন খবর নেই।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ তুলেছেন যে মেয়ের মৃত্যুর সাথে তার বাবা-মা এবং অন্য কেউ জড়িয়ে থাকতে পারে পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা দোষীদের খুঁজে বের বের করুক এবং আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হোক।

স্থানীয় বাসিন্দারা রাখো হরি ঘোষ, কুরবান শেখ, ফরিদ শেখ প্রমুখ মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মায়ের দিকে। মা পরকীয়া প্রেমে আবদ্ধ থাকার প্রতিবাদ জানাতো স্থানীয় কুসুম গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী জেসমিনা খাতুন। প্রতিবাদে তার কপালে জুটতো অত্যাচার ভয় ও মারধর।
মৃত জেসমিনা খাতুন বারবার গ্রামের লোকদের বলতো এবং পুলিশের কাছে ও জানিয়েছিল যে সে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছে। মা-বাবা যেকোনো সময় তাকে মেরে ফেলতে পারে এমনটা আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে গ্রামের মানুষের তরফ থেকে। তাই মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ রহস্য দানা বেঁধেছে এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্লান করে মা এবং তার প্রেমিক খুন করেছে। মন্তেশ্বর থানার পুলিশ জানান, এখনও পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে আমরা তদন্ত শুরু করবো।

Related posts

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ে নতুন দমকল কেন্দ্রের জন্য আধিকারিকদের পরিদর্শন

Topnewstoday

মালদায় এক লক্ষ টাকার জাল নোট সহ আটক দুই

Topnewstoday

মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা

Topnewstoday

Leave a Comment