• Home
  • খবর
  • বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় পথশিশুদের জন্য আলাদাভাবে শিশু সাহায্য কেন্দ্র জেলা প্রশাসনের
খবর পূর্ব বর্ধমান

বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় পথশিশুদের জন্য আলাদাভাবে শিশু সাহায্য কেন্দ্র জেলা প্রশাসনের

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৪ জানুয়ারি;

পূর্ব বর্ধমান জেলা শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, শিশুদের ওপর নানাবিধ অত্যাচার বন্ধের পাশাপাশি বিশেষ করে বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় কেবলমাত্র শিশুদের জন্য শিশু সাহায্য কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নেওয়া হল। এব্যাপারে খুব শীঘ্রই পূর্ব রেল দপ্তরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে চলেছে জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই বিশেষ করে বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় থাকা পথশিশুদের সম্পর্কে একটি তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর। যদিও এখনও এব্যাপারে খুব একটা কাজ এগোতে পারেনি জেলা প্রশাসন। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে শিশুদের ওপর অত্যাচার ও যৌন নিগ্রহের ঘটনা, শিশুদের ফেলে চলে যাওয়া প্রভৃতি ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিক প্রশান্ত রায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই শিশুদের ওপর এই অত্যাচার বন্ধের জন্য বর্ধমান ষ্টেশনে বিভিন্ন ট্রেনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়েও ঘোষণা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ষ্টেশন এলাকায় বিভিন্ন পোষ্টারের মাধ্যমে এব্যাপারে সাধারণ মানুষকে শিশুদের ওপর নির্যাতন করলে কি কি আইন রয়েছে সে বিষয়ে সতর্ক করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এদিকে, এরই পাশাপাশি বিশেষ করে বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় ক্রমশই বাড়ছে পথশিশুদের সংখ্যা। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসনও।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিভিন্ন সংস্থা এমনকি ব্যক্তিবিশেষও তাঁদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে এই ষ্টেশন এলাকাকেই বেছে নেন। তাদের জামাকাপড়, কম্বল দেওয়া থেকে মাঝে মাঝেই তাদের খাবার দেওয়া হয়। আর এসবের জন্য এই শিশুরা ষ্টেশন ছেড়ে বের হতে চাইছে না। প্রাথমিক হিসাবে অনুসারে প্রায় ১২০জন পথশিশু রয়েছে এই ষ্টেশন এলাকায় যাদের মধ্যে সিংহভাগই অনাথ নয়। তাদের বাবা-মাও রয়েছে। অনেক সময় এই শিশুদের দিয়ে রোজগার করিয়ে নেন বাবা-মারা। শিশু বয়সেই হাতে এই টাকা পাওয়ায় বেশিরভাগ শিশুই ড্রেনড্রাইট সহ একাধিক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে – যা নিয়ে রীতিমত চিন্তায় পড়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এই ষ্টেশন এলাকা থেকেই প্রায় ১৫টি ড্রাগ আসক্ত শিশুকে উদ্ধার করে তাদের সরকারী হোম উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যমগ্রামে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে বেশ কয়েকটি নাবালিকা ও কিশোরী মেয়েকেও উদ্ধার করে কলকাতার একটি হোমে পাঠানো হয় নেশামুক্তির জন্য। দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে এই সমস্ত পথশিশুদের ষ্টেশন চত্বরেই লেখাপড়া শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু তাও কার্যত বিফলে যায়। পথশিশুদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও তাদের মধ্যে অনাগ্রহ আরও চিন্তায় ফেলেছে জেলা প্রশাসনকে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমান ষ্টেশন এলাকার এই পরিবেশ থেকে শিশুদের বার করে এনে তাদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য স্কুলে ভর্তি, নিয়মিত খাওয়া দাওয়া, তাদের চিকিৎসা প্রভৃতির সুযোগ দিলেও তারা থাকতে চাইছে না। আর এরফলেই তাদের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ডাটাও তৈরী করা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এব্যাপারে খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেল দপ্তরের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষ ষ্টেশনে এদের থাকতে না দিলে বাধ্য হয়েই তারা সরকারী সুবিধা নিতে আগ্রহী হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। আর তাই এবার পাল্টা রেল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে চাপ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে চাইছে জেলা প্রশাসন।

Related posts

উত্তরবঙ্গ ডেন্টাল কলেজে ডিজিটাল লাইব্রেরীর উদ্বোধন

Topnewstoday

জনজাতি সংরক্ষণ নীতিকে লঘু করার বিরুদ্ধে বহুজন ক্লান্তি মোর্চার ইংরেজবাজার থানা ঘেরাও

Topnewstoday

দুই পরিবারের বচসার সময় ক্যারাটে এক্সপার্টের হাতে মৃত্যু এক মহিলার

Topnewstoday

Leave a Comment