• Home
  • খবর
  • বর্ধমান শহরের বিসিরোড সিএমএস স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের অনিয়মকে ঘিরে শোরগোল
খবর পূর্ব বর্ধমান

বর্ধমান শহরের বিসিরোড সিএমএস স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের অনিয়মকে ঘিরে শোরগোল

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৩ ফেব্রুয়ারী;

একদিকে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন আম জনতা থেকে একেবারে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও। কিন্তু সরকারী সেই সুফল গত ৪ বছরেও পৌঁছালো না খোদ বর্ধমানের এক নামী স্কুলের প্রাথমিক বিভাগে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ। অভিভাবকরা ইতিমধ্যেই ন্যায় বিচারের আশায় রাজ্য সরকার তথা জেলা প্রশাসনের দরজাতেও কড়া নেড়েছেন কিন্তু এখনও কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একটি স্কুলের উদ্ধত্যের সীমা কতদূর হতে পারে তা নিয়েও। এমনকি সরকারী নির্দেশকে গত ৪ বছর ধরেই অবমাননা করা হলেও কেন এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হল না স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে?

বর্ধমান শহরের বিসিরোডের খ্যাতনামা স্কুল সিএমএস। সেই স্কুলের সরকারী প্রাথমিক বিভাগেই এই অনিয়মকে ঘিরেই এখন শোরগোল পড়েছে। স্কুলের অভিভাবকরা সরাসরি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারী সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে ছাত্রদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। স্কুলের অভিভাবক দীপক কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে স্কুলে এবং বিশেষতই প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পোশাক এবং জুতো দেবার কাজ শুরু হলেও প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিএমএসের প্রাথমিক বিভাগে এই ধরণের কোনো সুবিধাই দেওয়া হয়নি ছাত্রদের। আর এই ঘটনায় সরাসরি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। এমনকি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতিরও অভিযোগে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ২০১৬ সাল থেকেই নানাবিধ অনিয়ম শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শাহ আলমের সঙ্গে বর্তমান প্রধান শিক্ষক সুভাষ চৌধুরীর বিরোধ এখন বিচারাধীন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, এই স্কুলে হয়না শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও। কার্যত প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

স্কুলের অভিভাবক দীপক কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, বর্তমান প্রধান শিক্ষক আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবী, আগের প্রধান শিক্ষক চলে যাবার সময় সুভাষবাবুকে ৩৭ হাজার টাকা সহ স্কুলের ফাণ্ডের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে যান। সুভাষবাবু তা লিখিতভাবে গ্রহণও করেন। কিন্তু তারপর আর ওই টাকার কোনো হিসাব দিচ্ছেন না। এমনকি রাজ্য সরকার স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য, খাতা, ব্যাগ, পোশাক, জুতো প্রভৃতি একাধিক সুবিধা দিচ্ছে – যা অন্য স্কুলগুলিতে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারী সেই টাকা এই স্কুলে এলেও অজ্ঞাত কারণে তা ছাত্রদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি বিগত কয়েকবছর ধরেই।

বর্তমানে ৫০০-রও বেশি ছাত্র রয়েছে এই স্কুলে। অভিভাবক শ্রাবণী চৌধুরী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের নিয়ে কোনো বৈঠক করেননি। বারবার স্কুলের নানাবিধ অসুবিধা নিয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তাতে কোনো লাভই হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেবার পর থেকেই প্রধান শিক্ষকের ঘরটিকে অজ্ঞাতকারণে তালাবন্ধ করে রেখে দিয়েছেন। তিনি সেখানে না বসে শিক্ষকদের সঙ্গে স্টাফ রুমে বসে কাজ করছেন। যা দৃষ্টিকটু এবং অসম্মানজনকও বলে তিনি দাবী করেছেন। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭, ২০১৮ সালে স্কুলের ছাত্রভর্তির জন্য ২৪০ টাকা করে ফি নেওয়া হলেও সেই টাকার কোনো হদিশ মেলেনি। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষককে বারবার বলেও তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সুভাষ চৌধুরী ভর্তির জন্য টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও সেই টাকা কোন একাউণ্টে রাখা হয়েছে সে প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে গেছেন। অন্যান্য শিক্ষক থেকে অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই টাকা প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত হেফাজতে রেখেছেন। তার উত্তরে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলে মিড ডে মিল চলছে। তার কোনো খরচ তিনি পাননা। এছাড়াও স্কুলের অন্যান্য খরচও রয়েছে। ওই ভর্তি ফির টাকা থেকেই তিনি খরচ করছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নিলেও প্রধান শিক্ষকের ঘরের চাবি তিনি পাননি। এমনকি স্কুলের যে ব্যাঙ্ক একাউণ্ট তাও তিনি ব্যবহার করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, সরকারীভাবে কোনো গ্রাণ্টের টাকা তিনি পাননি। এব্যাপারে যা বলার তিনি তা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই অনিয়মের বিষয়ে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। সরকারী নিয়ম সকলেই মেনে চলতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related posts

মৌমাছির হামলায় গুরুতর জখম হলো ১৫ জন প্রাথমিক স্কুল পড়ুয়া

Topnewstoday

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত, বলিউডি কায়দায় আত্মঘাতী দশম শ্রেণীর ছাত্র

Topnewstoday

ভারতের ছাত্রফেডারেশন নো জার্নি টিকিট

Topnewstoday

Leave a Comment