• Home
  • খবর
  • নদীয়ার তৃণমূল বিধায়ক খুনের জেরে পূর্ব বর্ধমানের সমস্ত বিধায়ক এবং কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ সদস্যকেও নিরাপত্তারক্ষী দেবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিল জেলা পুলিশ
খবর পূর্ব বর্ধমান

নদীয়ার তৃণমূল বিধায়ক খুনের জেরে পূর্ব বর্ধমানের সমস্ত বিধায়ক এবং কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ সদস্যকেও নিরাপত্তারক্ষী দেবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিল জেলা পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৩ ফেব্রুয়ারী;

নদীয়ার তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের সমস্ত বিধায়ক এবং কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সহ কিছু জেলা পরিষদ সদস্যকেও নিরাপত্তারক্ষী দেবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিল জেলা পুলিশ। বুধবার জেলার সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এমনকি এদিন সন্ধ্যে থেকেই ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, মন্তেশ্বরের বিধায়ক সৈকত পাঁজা, গলসির বিধায়ক অলোক মাঝি ও রায়নার বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুইকে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হল।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাকি বিধায়কদেরও বৃহস্পতিবার থেকে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের নিরাপত্তারক্ষী আগে থেকেই রয়েছে তাঁদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বিশেষত, যেসব এলাকায় বিরোধীরা শক্তিশালী এবং যেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র সেই সমস্ত জায়গার বিস্তারিত খোঁজ নেওয়াও শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, এদিনের বৈঠকে জেলার কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদের কিছু সদস্যকেও নিরাপত্তারক্ষী দেবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জেলার সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তাঁদের নিরাপত্তা দেবার বিষয়ে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নদীয়ার ঘটনার পরই বিধায়কদের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ জারী করা হয়েছে রাজ্য পুলিশ কর্তাদের পক্ষ থেকে। সেই নির্দেশ পূর্ব বর্ধমান জেলায় আসার পর বুধবার জেলা পুলিশ সুপার বিধায়কদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এব্যাপারে কোন্ কোন্ বিধায়কের সংশ্লিষ্ট এলাকায় কি পরিস্থিতি সে বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে আগামীকাল তথা বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বিধায়কদের নিরাপত্তা দেবার বিষয়টি এদিন কার্যত সমস্ত বিধায়কই মেনে নিয়েছেন। যদিও বিধায়কদের আলাদা করে নিরাপত্তা দেবার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বিরোধীরা। জেলা বিজেপির সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন, মা মাটি মানুষের সরকারের জনগণের যেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই, সেখানে বিধায়কদের নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রাজ্যের অবস্থাই প্রমাণ করা হয়েছে। ওদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে বুঝেই এই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

সমালোচনায় বিঁধেছেন সিপিএমের রাজ্য নেতা অমল হালদারও। তিনি বলেছেন, যতদিন যাচ্ছে মানুষ ওদের কাছ থেকে সরছে। দলের নেতারা তাই ভয় পাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গোষ্ঠী কোঁদলের জেরে। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ উত্তম সেনগুপ্ত যদিও পাল্টা জানিয়েছেন, বিরোধীরা শাসক দলের উপর নানাভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। খুন হতে হচ্ছে বিধায়ক, জনপ্রতিনিধিদের। নানাভাবে হুঁশিয়ারী দেওয়া হচ্ছে। তাই, বিধায়কদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

Related posts

রায়গঞ্জে জাকাত মাঝি পারগণার অবরোধ

Topnewstoday

লোকসভা নির্বাচন মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ

Topnewstoday

স্ত্রী’র পরকিয়া, নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামী আত্মঘাতী

Topnewstoday

Leave a Comment