• Home
  • খবর
  • বনধ এর মিশ্র প্রভাব কোচবিহারে বাস ভাঙচুর
খবর

বনধ এর মিশ্র প্রভাব কোচবিহারে বাস ভাঙচুর

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কোচবিহার  ২৬শে সেপ্টেম্বরঃ ইসলামপুরে  পুলিশের গুলিতে ছাত্র মৃত্যুর  ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার গোটা বাংলা তথা কোচবিহার জেলায় বি জে পি-র ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়ল কোচবিহার শহর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। তবেই বনধ কে  ঘিরে  রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ এলাকা।  এদিন সকাল থেকেই মিছিলে এবং পাল্টা মিছিলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন চত্বর। একসময় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল এবং বিজেপির কর্মীরা। পুলিশি হস্তক্ষেপে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। এদিন প্রায় ২০০ জন বনধ সমর্থনকারীকে গ্রেফতার করে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসার পর থানাকে ঘিরে ফেলে তৃণমূল কর্মীসমর্থকরা। রীতিমত থানার বাইরে থেকে থানার ভেতরে থাকা বিজেপি কর্মীদের ওপর ইট বৃষ্টি করতে থাকে তারা একইভাবে থানার ভেতর থেকেও তৃণমূল সমর্থকদের ওপরেও  ইট বৃষ্টি করতে দেখা যায় বিজেপি সমর্থকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস এর সেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ।
এদিন সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বেশ কয়েকটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনায় সামান্য উত্তেজনা ছড়ায় কোচবিহার শহরের বিভিন্ন এলাকায়। কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি, মরাপোড়া চৌপথী, নিউ টাউন সহ এদিন বিকালে  কোচবিহার ১নং ব্লকের  ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের কদমতলা এলাকায়  কোচবিহার – মাথাভাঙ্গা সড়কে আরো একটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালায়  বনধ সমর্থনকারীরা  বলে অভিযোগ। বিভিন্ন এলাকায় এই সরকারি বাসে ঢিল মারে বনধ সমর্থনকারীরা এবং ভেঙে যায় বাসের কাঁচ। হেলমেট পড়া থাকলেও আহত হয়েছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার এক বাস চালক। এদিন সকালেই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের বনধ বিরোধী মিছিল বের হয় কোচবিহার শহরে। সরকারি বাস চালু থাকলেও পুরোপুরি ভাবে স্তব্ধ বেসরকারি যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা। শহরের রাস্তায় টোটো রিক্সা উপস্থিতিও ছিল অনেকটাই নগন্য।  রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর পুরোপুরিভাবে খোলা থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে বিভিন্ন ব্যাংকগুলি এদিন বন্ধ থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে  পুলিশ এসে  বিভিন্ন ব্যাংক  খুলে দেয়।  এদিন বনধের সমর্থনে সংগঠনের কোচবিহার জেলা দপ্তর থেকে বিশাল মিছিল বের করে বিজেপি। এই মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তার পরিক্রমা করে। বেলা বাড়তে থাকলেও এদিন রাস্তায় বাড়েনি যানবাহনের সংখ্যা, খোলেনি অধিকাংশ দোকানপাট। তবে বিজেপি-র  ডাকা এই কর্মনাশা বনধ কে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এদিন তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে পুঁটি মাছের লাফালাফির সাথে তুলনা করে বলেছেন, পুঁটি মাছ জলে থাকলে লাফালাফি করে, কিন্তু ডাঙ্গায় তোলার পর কয়েকটি লাফ দেওয়ার পর নিস্তেজ হয়ে যায়। বিজেপি এবং তার দলের সভাপতির অবস্থা ঠিক একই।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন এই এই কর্মনাশা বনধকে ব্যর্থ করে যারা পথে নামবেন তাদের পুরোপুরি নিরাপত্তা দেবে সরকার। কিন্তু তারপরেও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাসে আক্রমণ এবং বাসচালকের আহত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার চেয়ারম্যান বিধায়ক মিহির গোস্বামী এ দিন বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, সমর্থকদের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না। তারা বিচ্ছিন্নভাবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার খেলায় নেমেছেন। মানুষ তাদের এই অপচেষ্টাকে মেনে নেবে না কখনোই।

Related posts

মেখলিগঞ্জ নিজতরফে অধিকার যাত্রা

Topnewstoday

আমবাগানে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

Topnewstoday

পার্ক স্ট্রিটের এপিজে হাউসে ভয়াবহ আগুন

Topnewstoday

Leave a Comment