কোচবিহারে এক অনুষ্ঠানে আজ নিশীথকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মার

Zoom In Zoom Out Read Later Print

কোচবিহার জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তারিণী রায় এদিন বলেন, সংশ্লিষ্ট এই অনুষ্ঠানে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ছিলেন। একমাত্র ছিলেন না তৃণমূল দলের প্রার্থী। তার স্থানে সেখানে ডাকা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতিকে। অথচ তৃণমূলের এই নেতার নেই ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ, নেই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ। যখন তখন যাকে তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ একজন দায়িত্ব জ্ঞানহীন মানুষ। উনি যে কাজ করেছেন সেগুলি একজন ক্রিমিনাল করে থাকে। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে এদিন জানান তারিণী রায়।



কিংশুক দত্ত ,কোচবিহার, ৬ এপ্রিল;

লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা কোচবিহার জেলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে আজকের ঘটনাই তার সাক্ষী এবং বলা যায় শনিবার তারই ট্রেলার দেখলো কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়ি এলাকার পঞ্চানন হলে উপস্থিত কিছু মানুষ। এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত মানুষ ও একটি বাংলা বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট এক বেসরকারি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে এদিন এই হলে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এক মঞ্চে এনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল আর এই অনুষ্ঠান মঞ্চে থাকা তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় দর্শক আসনে বসে থাকা তৃণমূল কর্মীসমর্থকরা রীতিমতো তাণ্ডব চালায় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ।

রীতিমত দর্শকদের জন্য বসার প্লাস্টিক চেয়ার শূন্যে ছুঁড়তে দেখা যায় এই উন্মত্ত তৃণমূল কর্মীদের। এতে আহত হন এই অনুষ্ঠানে দর্শক আসনে থাকা কয়েকজন বিজেপি সমর্থক। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাঝপথেই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিন এই অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী গোবিন্দ রায়, বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক, কংগ্রেস প্রার্থী প্রিয়া রায় চৌধুরী, তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক দেবব্রত চাকী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং তারপর বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিককে প্রশ্ন করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা। আর এর মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং নিশীথ প্রামাণিকের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। পরিস্থিতি এমন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে যায় এবং মেজাজ হারিয়ে হাতে থাকা মাইক্রোফোন উঁচিয়ে বিজেপি প্রার্থী কে মারতে উদ্যত হন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এই অবস্থায় দর্শক আসনে থাকা তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তারপরেই তারা শুরু করে তাণ্ডব। উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কোচবিহার জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তারিণী রায় এদিন বলেন, সংশ্লিষ্ট এই অনুষ্ঠানে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ছিলেন। একমাত্র ছিলেন না তৃণমূল দলের প্রার্থী। তার স্থানে সেখানে ডাকা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতিকে। অথচ তৃণমূলের এই নেতার নেই ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ, নেই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ। যখন তখন যাকে তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ একজন দায়িত্ব জ্ঞানহীন মানুষ। উনি যে কাজ করেছেন সেগুলি একজন ক্রিমিনাল করে থাকে। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে এদিন জানান তারিণী রায়।

See More

Latest Photos