মালদায় সিপিএমের হাত ধরে জেতার চেষ্টা করছে কংগ্রেস প্রার্থী বরকত'দা বেঁচে থাকলে এটা শুনে আত্মহত্যা করতেন, ফিরহাদ

Zoom In Zoom Out Read Later Print

দু বারের সাংসদ ডালুবাবু পার্লামেন্টে নিজের এলাকার এবং মানুষের সমস্যা নিয়ে কোনদিনই বক্তব্য রাখেন নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা, ১৩ এপ্রিল; 

মালদায় সিপিএমের হাত ধরে জেতার চেষ্টা করছে কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) । বরকত'দা বেঁচে থাকলে এটা শুনে আত্মহত্যা করতেন। কারণ বরকত'দা  প্রথম সিপিএমকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলার ডাক দিয়েছিলেন।  শনিবার দক্ষিণ মালদায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারে কংগ্রেসকে সরাসরি এভাবে আক্রমণ করলেন রাজ্যের পুরো ও নগোরন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।  কালিয়াচক থানার নওদা যদুপুর এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের সমর্থনে নির্বাচনী সভা করেন ফিরহাদ হাকিম।  এদিন দুপুর দুটো নাগাদ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই প্রবল ঝড় বৃষ্টি শুরু হয় । আর সেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নওদা  যদুপুর মাঠে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন।

মন্ত্রী বলেন,  মুর্শিদাবাদে আর এস এস এর হাত ধরেছে অধীর চৌধুরী। আর মালদায় সিপিএমের হাত ধরেছে ডালুবাবু । আসলে কংগ্রেসের শীড়দাড়া নেই। আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছে। কোনদিন শুনবেন হয়তো কংগ্রেস জেতার জন্য বিজেপিকে নিয়ে চলছে।

এদিন নির্বাচনী প্রচার এসে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল বিজেপি এবং কংগ্রেস। ফিরহাদ হাকিম বলেন,  বরকত'দা যখন কংগ্রেস করতেন। তখন আমরা ছোট ছিলাম। তখন তার সাথে আমরা ঘুরেছি।  রাজনীতিও করেছি। সে সময় কোথায় ছিলেন ডালুবাবু । তখন তো তাকে দেখা যায় নি। অথচ বরকত সাহেব যখন প্রয়াত হলেন। তার পরে উনি এলেন। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে বরকত'দার নাম করে ভোট চাইলেন।  মানুষ দুহাত তুলে বরকত'দার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডালুবাবুকে ভোট দিয়ে জয়ী করালেন।  দু বারের সাংসদ ডালুবাবু পার্লামেন্টে নিজের এলাকার এবং মানুষের সমস্যা নিয়ে কোনদিনই বক্তব্য রাখেন নি।

মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন,  দক্ষিণ মালদার সিপিএম প্রার্থী দেয় নি‌। এতেই বোঝা যাচ্ছে যে কংগ্রেস এবং সিপিএম  তলে তলে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। ওরা এখন এক। অথচ এই সিপিএমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বরকতদা।  সিপিএমকে বঙ্গোপসাগরে ফেলা ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ঠিক এইভাবে জননেত্রী মমতা ব্যানার্জি ও সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সিপিএমকে নিয়ে চলছেন বরকতদার ভাই ডালুবাবু । এর থেকে আর লজ্জার কিছু হতে পারে না। কখনো হয়তো কংগ্রেস নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে বিজেপিকে নিয়ে চলবে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন,  গরুর থেকে মানুষের দাম কমে গিয়েছে। এনআরসি নিয়ে দেশজুড়ে বিজেপি যা বলছে তাতে একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে বাংলাদেশ তাড়াবার পরিকল্পনা করছে।  এসব নিয়ে দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ কোনদিনই পার্লামেন্টে বক্তব্য পেশ করেন নি ডালুবাবু। আজ পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, মালদা থেকে ভিন রাজ্যের অনেক শ্রমিকেরা কাজে গিয়েছেন। কিন্তু এরই মধ্যে রাজস্থানে কালিয়াচকের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হলো। মানিকচক থেকে উত্তর প্রদেশে কাজ করতে গিয়ে ১৩ জন শ্রমিক বোমা বিস্ফোরণে মারা গেলেন। এইসব  অসহায় পরিবারগুলির পাশে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি দাঁড়িয়েছেন। তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওই সব রাজ্যের সরকার মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং সুবিচার পাইয়ে দেয় নি।

এদিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নির্বাচনী সভা শুরুর মুহূর্তে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয় । আর সেই ঝড় বৃষ্টির মধ্যেই নির্বাচনী সভা শুরু হতে প্রায় এক ঘন্টা দেরি হয় । কিন্তু তারই মধ্যে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রচুর মানুষ নওদা যদুপুর মাঠে জমায়েত হন।  মন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন দক্ষিণ মালদার তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জেলা তৃণমূলের নেতারা। 

See More

Latest Photos