ভোট চলে যায় সংগে যায় সহস্র প্রতিশ্রুতি

Zoom In Zoom Out Read Later Print

গ্রামবাসীরা বলছেন, যখনই ভোট আসে, তখনই তার পিছনে পিছনে আসে প্রতিশ্রুতিও। ভোট চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসেই মিলিয়ে যায় প্রতিশ্রুতিও। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, রাস্তার এই খারাপ অবস্থার জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগে একজন মারাও গেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো উদ্যোগ নেননি প্রশাসনের কর্তারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৫ এপ্রিল;

দেখতে দেখতে আবার একটা বড় ভোট উৎসবের মুখোমুখি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার তথা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর লোকসভা এলাকার কামালপুর, খালপাড়া, গৈতানপুর, শালুন প্রভৃতি বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ইতিমধ্যেই তাঁরা পাচ্ছেন ঝুড়ি ঝুড়ি প্রতিশ্রুতি। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে প্রতিশ্রুতির পূরণ তাঁরা দেখেন নি। বারবার ভোটের সময় এই প্রতিশ্রুতির বন্যা দেখতে দেখতে এখন তিতিবিরক্ত গ্রামের মানুষজন। তাই আর প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ চাই কাজ।

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার কামালপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম দামোদরের বাঁধ বরাবর এই রাস্তা। কেবলমাত্র কামালপুর গ্রাম এবং আশপাশের দু একটি গ্রামের মধ্যে রয়েছে ৫টি স্কুল। যেখানে পড়াশোনা করে কয়েক হাজার ছেলেমেয়েও। কিন্তু বারবার প্রশাসনিক স্তরে আবেদন, নিবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি আজও। ফের আবারও একটি ভোটের মুখোমুখি গ্রামবাসীরা। কি ভাবছেন তাঁরা তা না জানালেও গ্রামবাসী মীর আবুল হোসেন বিগত বিধানসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁরা এই রাস্তার জন্য ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা বয়কট তুলে নিতে বাধ্যও হয়েছিলেন। কিন্তু কেন রাস্তার এই হাল? গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ দামোদরের পোলেম পুর থেকে মহাচণ্ডীপুর পর্যন্ত দামোদরে রয়েছে অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ বালি খাদান। সেখান থেকে প্রতিদিন শয়ে শয়ে ওভারলোর্ডিং গাড়ি যাতায়াত করে। ফলে প্রতিদিনই রাস্তা খারাপ থেকে খারাপতর হয়ে উঠছেই। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বারবার প্রশাসনিক সমস্ত স্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন। জানিয়েছেন বালিখাদানের মালিকদেরও। করেছেন রাস্তা মেরামতির দাবীতে দফায় দফায় রাস্তা অবরোধও। কিন্তু কোনো কিছুতেই লাভ হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভোট নিয়ে বিন্দুমাত্র তাঁদের কোনো আগ্রহ নেই। কি হবে ভোট দিয়ে - বলছেন আশাহত গ্রামবাসীরা।

অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী উনমিনা খাতুন, দশম শ্রেণীর ছাত্র নাসেম মল্লিকরা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে প্রাণ হাতে করেই তাদের স্কুল যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে গোটা রাস্তাই ভরে যায় জলে। তখন বোঝাই যায় না এটা কোনো রাস্তা নাকি পুকুর। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ে। একই কথা বলেছেন ট্রাক্টর চালক লাল্টু মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, গাড়ি চালাতে কিংবা মাল বোঝাই নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের ঝুঁকি নিয়েই। যে কোনো মূহূর্তেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যায়। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক লাল্টু সেখ জানিয়েছেন, মূমূর্ষ রোগী নিয়ে যাতায়াত করা রীতিমত ঝুঁকিবহুল হয়ে পড়েছে। তবুও তাঁদের আশা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাঁদের এই সমস্যা দ্রুতই মেটাবেন। যদিও লাল্টু সেখের বক্তব্য মানতে নারাজ গ্রামবাসীদের অনেকেই। তাঁরা বলেছেন বহুদিন ধরেই তাঁরা বলে চলেছেন। কই কোনো হেলদোল ঘটেনি তাতে প্রশাসনের। গ্রামবাসীরা বলছেন, যখনই ভোট আসে, তখনই তার পিছনে পিছনে আসে প্রতিশ্রুতিও। ভোট চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসেই মিলিয়ে যায় প্রতিশ্রুতিও। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, রাস্তার এই খারাপ অবস্থার জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগে একজন মারাও গেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো উদ্যোগ নেননি প্রশাসনের কর্তারা।

See More

Latest Photos