নারী যত উচ্চপদেই থাকুন না কেন, পুরুষের লালসার শিকার হতে পারেন তিনিও, আন্তর্জাতিক নারীদিবসে Top News Today এর প্রতিবেদন

Zoom In Zoom Out Read Later Print

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এমনই এক ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় মার্কিন সেনেট। অভিযোগ, নারী নির্যাতনের ঘটনাটি খোদ মার্কিন বায়ূসেনায়, যে বাহিনীর নাম বিশ্বজোড়া।

প্রতিবেদন, ৮ মার্চ;

নারী যত উচ্চপদেই থাকুন না কেন, পুরুষের লালসার শিকার হতে পারেন তিনিও। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এমনই এক ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় মার্কিন সেনেট। অভিযোগ, নারী নির্যাতনের ঘটনাটি খোদ মার্কিন বায়ূসেনায়, যে বাহিনীর নাম বিশ্বজোড়া। যাদের এলিট গোষ্ঠী বলে পরিচিত নেভি সিল ভিন দেশের মাটিতে গোপন ও রুদ্ধশ্বাস অভিযানে খতম করেছিল দুনিয়ার পয়লা নম্বর জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনকে। সেই বায়ুসেনায় ধর্ষিতা হয়েছেন একজন মহিলা, যিনি আবার মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রথম মহিলা পাইলটও বটে। যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান চালানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাও যাঁর যথেষ্ট। ২৬ বছর মার্কিন বায়ুসেনায় চাকরি করার পর এখন সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি সামনে এনেছেন মহিলা পাইলটটি।

তাঁর অভিযোগ, বায়ুসেনায় চাকরি করার সময় তিনি ধর্ষিতা হয়েছিলেন। তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন বায়ুসেনায় তাঁর উর্ধ্বতন এক অফিসার। সেই মহিলা পাইলট এখন মার্কিন সেনেটের সদস্যা। আমেরিকার অ্যারিজোনা প্রদেশ থেকে তিনি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে নির্বাচিত সেনেটর। তাঁর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন মার্কিন সেনেট তোলপাড়। অভিযোগটি নিয়ে শুনানি চলছে মার্কিন সেনেটে। গত বুধবার সেনেটে স্পষ্ট করে অভিযোগটি নিয়ে মুখ খুলেছেন ওই সেনেটর মার্থা ম্যাকস্যালি। সেনাবাহিনীতে যৌননিগ্রহের অভিযোগ উঠলে কেমন পদক্ষেপ করতে হবে এবং এই ধরনের অপরাধ রোখার উপায় কী কী, তা নিয়েই ক’দিন ধরে আলোচনা চলছে সেনেটে। সেখানেই প্রথম বিস্ফোরক অভিযোগটি করেন মার্থা। তিনি যদিও ওই ধর্ষক অফিসারের নামটি বলেননি। কিন্তু এতদিন পর তিনি অভিযোগ করলেন কেন?

মার্থার বক্তব্য, সেনাবাহিনীতে অভিযোগ জানিয়ে লাভ হবে, এমন বিশ্বাসই তাঁর ছিল না। তাছাড়া তিনি দ্বিধাতেও ছিলেন। সেনাবাহিনীতে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার মিলবে না, এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আবার প্রশ্ন তুলে দিল যে, মহিলারা কি তাহলে কোথাও সুরক্ষিত নন? রক্ষকই কি তাহলে ভক্ষক? মার্কিন বায়ুসেনার মতো খ্যাতনামা সামরিক সংস্থাতেও যদি মহিলারা নিরাপদ না হন, তাহলে এর চেয়ে উদ্বেগের আর কি আছে? মার্থা এতদিন পর কেন মুখ খুললেন? তাও একেবারে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের ঠিক আগে? মার্থা বলেছেন, ‘চাকরি জীবনের শেষ দিকে দেখছিলাম, বায়ুসেনায় একটার পর একটা কেলেঙ্কারি হয়েই চলেছে। কিন্তু সেগুলির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না বাহিনীতে। তাই মনে হল, এ বার অন্তত জানানো দরকার যে এমন নিগ্রহের শিকার আমিও।’

মার্কিন সেনেটে বলতে বলতে গলা ধরে এসেছে এই পোড়খাওয়া মহিলা পাইলটের। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছি যে কিছু বললে পরিণতি কত ভয়ঙ্কর হতে পারে। ১৮ বছর কাজ করার পর তাই নিজেকে গুটিয়ে রাখতাম।’এর পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মার্থা। তিনি বলেন, ‘মনে হত গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রই আমাকে ধর্ষণ করছে।’ মার্থা বলেছেন, সেনাবাহিনীতে যে পদ্ধতিগত ব্যর্থতাগুলি আছে, তিনি তা জীবন দিয়ে বুঝতে পেরেছেন। তাঁকে যৌন নিগ্রহের সমস্যাটা বুঝতেই চাইতেন না বায়ুসেনার কমান্ডাররা। তাঁদের পুরুষ সুলভ মানসিকতাই এই পরিস্থিতি তৈরি করে বলে মনে করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসতে হইহই পড়ে গিয়েছে মার্কিন বায়ুসেনায়। ওই বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন ক্যারি ভোলপে এতদিন পর এক বিবৃতিতে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে সেনেটর ম্যাকস্যালির ওই অভিজ্ঞতার জন্য আমরা দুঃখিত ও ব্যথিত। আমরা ওঁর পাশে আছি। বায়ুসেনায় এই ধরনের ঘটনা রুখতে বদ্ধপরিকর। সত্যিই যদি মার্কিন বায়ুসেনা যৌন হেনস্থা রুখতে সদর্থক কোন পদক্ষেপ করে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাহলে এর চেয়ে ভালো খবর আর কিছু হতে পারে না।

See More

Latest Photos