আঝাপুর এবং জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরূপের অভিযোগ

Zoom In Zoom Out Read Later Print

আঝাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক ঘোষ জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের কাজ করার সময় প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহায়কের ই-টোকেন ব্যবহার করে সরকারি অর্থ তছরুপ করেছেন সুকান্ত পাল। ১০০ দিনের প্রকল্পের ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা বিভিন্ন স্কিমের বাড়তি পেমেন্ট করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৩ ফেব্রূয়ারি;

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার আঝাপুর এবং জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর জামালপুর থানার কাঁসরা গ্রামের বাসিন্দা সুকান্ত পালের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরূপের অভিযোগকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে জামালপুর থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাহী সহায়ক মলয়চন্দন মুখার্জ্জী অভিযোগে জানিয়েছেন, অডিটের অনুসন্ধানে ইন্দিরা আবাস যোজনায় কনভার্জেন্সে ১১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা ও এনআরইজিএস ভার্মি কম্পোস্টে ২৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্কিল্ড ও সেমি স্কিল্ড লেবারদের পেমেন্ট বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে। যদিও তার কোনও অনুমোদন বা বিল ও ভাউচার নেই।

নিয়ম অনুযায়ী সুপার ভাইজারদের ৪(ক) ফর্ম গ্রামে গিয়ে পূরণ করে আনতে বলা হত। ফর্ম পূরণের পর মাস্টাররোল তৈরি হত। সেই মাস্টাররোল বিডিও অফিস থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর তা পাঠানো হত। মাস্টাররোল তৈরির সময় কাজ করত সুকান্ত পাল। মাস্টাররোলে অন্য নাম থাকলেও সুকান্ত পাল নিজের বা পরিবারের কারও অ্যাকাউন্ট নম্বর দিত। সম্প্রতি তিনি বেড়ুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে বদলী হন।

গত ১৭ জানুয়ারী থেকে ২৪ জানুয়ারী পর্যন্ত এ জি অডিটেই এই আর্থিক তছরুপের বিষয়টি সামনে আসে। হাতিয়ে নেওয়া টাকা সুকান্ত পাল তাঁর ব্যক্তিগত একাউন্ট ছাড়াও নাবালক পুত্র স্বপ্ননীল পাল এবং স্ত্রী হৃষিতা পালের একাউণ্টে জমা পড়েছে। অন্যদিকে, লিখিত অভিযোগে আঝাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক ঘোষ জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের কাজ করার সময় প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহায়কের ই-টোকেন ব্যবহার করে সরকারি অর্থ তছরুপ করেছেন সুকান্ত পাল। ১০০ দিনের প্রকল্পের ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা বিভিন্ন স্কিমের বাড়তি পেমেন্ট করা হয়েছে। পেমেন্টের পুরো টাকা অন্যের নাম ব্যবহার করে একটি ব্যাংকের গোপীনগর ব্রাঞ্চে স্ত্রী, নাবালক পুত্র ও নিজের নামে জমা করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর বিডিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ৩টি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেন। যদিও আদালতের নির্দেশ ছাড়া তা সম্ভব নয় বলে ব্যাংকের তরফে বিডিওকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, এই ঘটনায় জামালপুরের বিডিও সুব্রত মল্লিক জানিয়েছেন, জামালপুর-২ ও আঝাপুর পঞ্চায়েতের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। দু’টি এফআইআর করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত চলছে। বিষয়টি জেলা ও রাজ্যের আধিকারিকদের বিশদে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা জানাজানি হতেই সুকান্ত পাল পালিয়ে গেছেন। তার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।

See More

Latest Photos