জানেন কি সিনেমায় সংঘাতের দৃশ্যে ব্যবহার করা নকল রক্তও স্বাস্থ্যসম্মত!

Zoom In Zoom Out Read Later Print

বাংলাদেশি সিনেমার মেকআপ শিল্পী হক মিয়া জানালেন, শরবত রুহ আফজা, খাওয়া যেতে পারে, এমন রং আর ময়দা দিয়ে রক্ত বানানো হয়। তরল রক্ত তৈরিতে রুহ আফজা আর রং ব‍্যবহার করা হয়। রুহ আফজা খুব পাতলা। তাই রক্তের মতো ঘন করতে তাতে রং মেশানো হয়। কী রং? মিষ্টি বানাতে বা কেক তৈরি করতে যে রং ব‍্যবহার হয়, সেটাই রক্ত তৈরির অন‍্যতম প্রধান উপকরণ।

কলকাতা; . কখনও ভেবেছেন, সিনেমার মারামারিতে যে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়, তা কি আসল? ওই রকম আঘাত নিয়ে কি কেউ অভিনয় করে। সিনেমা শিল্পের অন্দরমহলে খোঁজ করলে বুঝতে পারবেন, সে সব আসলে নকল রক্ত। সিনেমায় ভিলেনের মার খাওয়া তো প্রায় নিয়মই। কখনও কখনও চিত্রনাট‍্যের প্রয়োজনে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মৃত‍্যুও ঘটে। আবার নায়কও মাঝে মাঝে মার খায়। তাঁর শরীর থেকে ঝলকে ঝলকে রক্ত ছিটে আসতে দেখেন দর্শকরা। প্রশ্ন আসতেই পারে, এত তাজা রক্ত সিনেমা প্রযোজকরা পান কোথায়? পান। তবে এ সব আসল নয়, নকল রক্ত। তৈরি করা হয়। তার জন‍্য খরচ আছে।

কয়েকটি জিনিসের মিশ্রণে তৈরি করা হয় ভেজাল রক্ত। তাও আবার দু’ রকমের নকল রক্ত। একরকম হল তাজা, আর এক ধরনের রক্ত হল জমাট বাঁধা। মারামারির অনেক পরের দৃশ‍্যে তো আর তাজা রক্ত দেখানো যায় না। দেখাতে হয় শরীরে রক্ত শুকিয়ে রয়েছে। ফলে শুকনো রক্তের চাহিদাও ভালো। কেমন করে তৈরি হয় এই ভেজাল রক্ত। এ ব‍্যাপারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র মহল থেকে নানা আকর্ষণীয় তথ‍্য জানা গিয়েছে। সে দেশের চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকনের বক্তব‍্য, রক্ত কমবেশি সব ছবিতেই লাগে। অভিনেতাদের কথা ভেবে স্বাস্থ‍্যসম্মত জিনিস দিয়ে রক্ত তৈরি করা হয়। রক্ত তাজা হোক বা জমাটবাধা, তা পেটে গেলেও যেন ক্ষতি না হয়। কিন্তু কী কী সেই জিনিস, যা রক্ত তৈরির উপকরণ?

বাংলাদেশি সিনেমার মেকআপ শিল্পী হক মিয়া জানালেন, শরবত রুহ আফজা, খাওয়া যেতে পারে, এমন রং আর ময়দা দিয়ে রক্ত বানানো হয়। তরল রক্ত তৈরিতে রুহ আফজা আর রং ব‍্যবহার করা হয়। রুহ আফজা খুব পাতলা। তাই রক্তের মতো ঘন করতে তাতে রং মেশানো হয়। কী রং? মিষ্টি বানাতে বা কেক তৈরি করতে যে রং ব‍্যবহার হয়, সেটাই রক্ত তৈরির অন‍্যতম প্রধান উপকরণ।

তবে শুকনো রক্ত তৈরির জন‍্য রুহ আফজা ও রংয়ের সঙ্গে মেশানো হয় ময়দা। ময়দা কী পরিমাণে মেশানো হবে, তা নির্ভর করে সেই সিনেমায় রক্ত কতটা শুকনো দেখানো হবে, তার উপর। তা এই ভেজাল রক্ত তৈরির খরচ কেমন? গড়ে সিনেমা পিছু ৫০০০ টাকা। তেমন কিছু নয় বটে। কিন্তু এটা ছাড়া চলবেও না। রক্ত ছাড়াও রক্তপাত দেখাতে প্রয়োজন হয় বেলুন আর বারুদের। বেলুনের মধ‍্যে রক্ত ভরে তার সঙ্গে হালকা বারুদ যুক্ত করে অভিনেতার শরীরে সেঁটে রাখা হয়। বারুদের সঙ্গে ব‍্যাটারি চালিত তার লাগানো থাকে। কেউ গুলি করুক বা ধারালো অস্ত্রের কোপ দিক, সঙ্গে সঙ্গে ওই অভিনেতা কায়দা করে ওই তারের প্লাস মাইনাস এক করে দেবেন। তাতে বারুদ ফেটে বেলুনটাকেও ফাটিয়ে দেবে। আর মনে হবে অভিনেতার শরীর থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে। এই প্রযুক্তিতে অবশ‍্য তেমন খরচ নেই। সিন প্রতি লাগে মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু গোটা অ্যরেঞ্জমেন্টের জন‍্য লাগে ২০০০ টাকা।

কিন্তু ইদানিং মারভপিটের ছবি কমে গিয়েছে। ফলে রক্ত আর আগের মতো লাগে না। রক্ত বানানো যাঁদের জীবিকা, তাঁরা তাই হতাশ। ব‍্যস্ততাও আর আগের মতো নেই।

See More

Latest Photos