মিটার রিডিং দেখার নাম করে ছদ্মবেশী দুষ্কৃতির বাড়ি বাড়ি হানা বর্ধমানে

Zoom In Zoom Out Read Later Print

স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিসকে ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখায়। অনেক রাত পর্যন্ত জেলার সিনিয়র অফিসাররা বড়া গ্রামে ছিলেন। যথাযথ তদন্তের আশ্বাস মেলার পর বিক্ষোভ থামে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ৩রা এপ্রিল;

কালনা থেকে মেমারী একের পর সিরিয়াল কিলিং-এর ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল জেলা পুলিশ। বুধবারই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মেমরী থানা ঘুরে গেলেন বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি তন্ময় রায় চৌধুরী সংগে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। চলতি বছরের ২ জানুয়ারী কালনার উপলতি গ্রামে মিটার রিডিং দেখার নাম করে বাড়িতে ঢুকে এক লক্ষ্মীবালা পাল নামে বৃদ্ধাকে গলায় শেকল পেঁচিয়ে খুনের চেষ্টা করে দুষ্কৃতি। বৃদ্ধার গহনা লুঠে করে পালায় দুষ্কৃতি। ঘটনার তদন্তে নামে কালনা থানার পুলিশ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনার ৬ দিনের মাথায় একইভাবে কালনার আনুখালা গ্রামে খুন হন পুষ্প দাস নামে এক বৃদ্ধা।

গত ৩১ মার্চ কালনা থানার হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মডাঙা গ্রামে ফের বাড়ির বিদ্যুতের মিটার রিডিং নেওয়ার নাম করে বাড়িতে ঢুকে ইতি মণ্ডল নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা চালায় দুষ্কৃতী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে । আর কালনার এই ঘটনার পর এবার খোদ
মঙ্গলবার মেমারী থানা এলাকার সেগুনবাগান এবং বড়া গ্রামে প্রায় একই সময়ে দুই মহিলার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল জেলা পুলিশ প্রশাসন। বুধবারই দুপুরে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে মেমারী থানায় আসেন বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি তন্ময় রায় চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ও। ডিআইজি গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট নেন তদন্তকারী অফিসারের কাছ থেকে।

মঙ্গলবার সাতগেছিয়ায় সেগুন বাগানের কাছে বাড়ি থেকে মমতা কিস্কুকে (৫০) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মেমারির পাহাড়হাটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। তাঁর স্বামী শ্যামাপদ কিস্কু গোরু নিয়ে মাঠে গিয়েছিলেন। দুই ছেলে খেতমজুরের কাজে বাইরে ছিলেন। খাবার খেতে দুপুরে বাড়িতে এসে তাঁর দুই ছেলে মমতা দেবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শ্যামাপদ জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কি জন্য তাঁর স্ত্রীকে খুন করা হল তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এদিকে, মমতা কিস্কুর মৃত্যুর ঘটনা চাউড় হতে না হতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই মেমারী থানার বড়া গ্রাম থেকে রীতা রায় (৫২) নামে এক গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মাথার পিছনেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। শাড়ি অবিন্যস্ত অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিসকে ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখায়। অনেক রাত পর্যন্ত জেলার সিনিয়র অফিসাররা বড়া গ্রামে ছিলেন। যথাযথ তদন্তের আশ্বাস মেলার পর বিক্ষোভ থামে।

মেমারি থানার এক অফিসার বলেন, ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে দু’জনের মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে, এর সঙ্গে চেন কিলিংয়ের সম্পর্ক নেই বলে মনে হচ্ছে। দু’টি বাড়িতেই মিটার নেই। তাছাড়া মৃতাদের গলায় চেন প্যাঁচানোর কোনও চিহ্ন মেলেনি। পুলিস সুপার বলেন, দু’টি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’টি ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে। দু’টি ঘটনা প্রায় একই সময়ে ঘটেছে। কাজেই খুনি একই না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু’টি বাড়িতেই বিদ্যুতের মিটার নেই। সে কারণে কালনার মতো মিটার দেখার নাম করে চেন কিলাররা খুন করেছে এই তত্ত্ব প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছেনা। খুনিকে ধরার জন্য সব ধরণের চেষ্টা চলছে।


See More

Latest Photos